আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়িদের জন্য বিরাট সুখবর! এক ধাক্কায় ৫,০০০ টাকা পারিশ্রমিক বাড়াল রাজ্য সরকার
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাজেটে (২০২৬-২৭) ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি ও পার্শ্বশিক্ষকদের ভাতা এক ধাক্কায় ৫,০০০ টাকা এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের ২,০০০ টাকা বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার।
Study4India Team
Expert Educator
রাজ্য বাজেটে ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য ঐতিহাসিক ঘোষণা
দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিতে সরব ছিলেন রাজ্যের লক্ষাধিক আশাকর্মী (ASHA) এবং অঙ্গনওয়াড়ি (Anganwadi) কর্মীরা। অবশেষে তাদের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাজেটে (২০২৬-২৭) এই সমস্ত তৃণমূল স্তরের ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য এক ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট ভাষণে জানিয়েছেন, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং পার্শ্বশিক্ষকদের মাসিক ভাতা এক ধাক্কায় ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
শুধু আশাকর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরাই নন, সিভিক ভলান্টিয়ার, হোম গার্ড থেকে শুরু করে মিড-ডে মিল রান্নার কাজে যুক্ত কর্মীদের জন্যেও থাকছে বিরাট সুখবর। নয়া এই সরকারের প্রথম বাজেটে সমাজের খেটে খাওয়া ও জরুরি পরিষেবার সাথে যুক্ত এই অস্থায়ী কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
Figure 1: ভাতা বৃদ্ধির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মধ্যে খুশির মেজাজ।
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা (Key Highlights)
- আশাকর্মী (ASHA) ও অঙ্গনওয়াড়ি: মাসিক ভাতা বৃদ্ধি পেল ৫,০০০ টাকা।
- পার্শ্বশিক্ষক (Para-teachers): এদের ভাতাও একলপ্তে ৫,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
- সিভিক ভলান্টিয়ার ও গ্রিন পুলিশ: মাসিক ভাতা বাড়ল ২,০০০ টাকা।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: সমস্ত বর্ধিত ভাতা আগস্ট ২০২৬ থেকে প্রদান করা হবে।
তৃণমূল স্তরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জোর ও স্বীকৃতি
গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যরক্ষায়, টিকাকরণ কর্মসূচিতে এবং ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে আশাকর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে কাজ করেন। পূর্ববর্তী সরকারগুলির আমলে এই বিপুল শ্রমের বিনিময়ে তাদের প্রাপ্তি ছিল খুবই সামান্য। কিন্তু নতুন প্রশাসন এই কর্মীদের অবদানকে যোগ্য সম্মান দিতে চেয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে বর্তমানে কয়েক লক্ষ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা এবং আশা কর্মী রয়েছেন। এই ৫,০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির ফলে এই সমস্ত পরিবারগুলিতে সরাসরি অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আসবে। এর পাশাপাশি, শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পার্শ্বশিক্ষকদের ভাতাও সমপরিমাণ বৃদ্ধি করায় শিক্ষাক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কার বেতন কত বাড়ল? (সম্পূর্ণ তালিকা)
বাজেট পেশের পর অর্থদপ্তর থেকে একটি স্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে থাকা চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধির পরিমাণ বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। নিচের সারণিতে তা তুলে ধরা হলো:
| কর্মীর পদ (Designation) | ভাতা বৃদ্ধির পরিমাণ (Hike Amount) | কবে থেকে কার্যকর? (Effective From) |
|---|---|---|
| আশাকর্মী (ASHA Workers) | + ৫,০০০ টাকা/মাস | আগস্ট ২০২৬ |
| অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা | + ৫,০০০ টাকা/মাস | আগস্ট ২০২৬ |
| পার্শ্বশিক্ষক (Para-teachers) | + ৫,০০০ টাকা/মাস | আগস্ট ২০২৬ |
| সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic Volunteers) | + ২,০০০ টাকা/মাস | আগস্ট ২০২৬ |
| গ্রিন পুলিশ ও হোম গার্ড | + ২,০০০ টাকা/মাস | আগস্ট ২০২৬ |
| NVF ও প্রাণিমিত্র কর্মী | + ২,০০০ টাকা/মাস | আগস্ট ২০২৬ |
| মিড-ডে মিল রান্নার কর্মী (Cooks) | + ১,০০০ টাকা/মাস | আগস্ট ২০২৬ |
সিভিক ভলান্টিয়ার ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য স্বস্তি
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক পরিচালনা এবং উৎসবের মরসুমে পুলিশকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সিভিক ভলান্টিয়ার এবং গ্রিন পুলিশদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদেরও পারিশ্রমিক ২,০০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। এর ফলে আগস্ট মাস থেকে তারা বর্ধিত হারে বেতন হাতে পাবেন। এর পাশাপাশি পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনে থাকা গ্রামীণ প্রাণিমিত্র (Rural livestock extension workers) কর্মীদের ভাতাও ২,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
স্কুলগুলিতে শিশুদের জন্য রান্না করা পুষ্টিকর খাবার তুলে দেন মিড-ডে মিলের কর্মীরা। নামমাত্র পারিশ্রমিকে কাজ করা এই মহিলাদের ভাতাও মাসে ১,০০০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ গ্রামের দরিদ্র মহিলাদের ক্ষমতায়নে একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।
Figure 2: ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ভাতাবৃদ্ধি।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের ২০% DA বৃদ্ধি
অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের এই বিপুল আর্থিক সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি, নিয়মিত সরকারি কর্মীদের জন্যেও এক বিরাট ঘোষণা করেছে প্রশাসন। দীর্ঘদিনের ডিএ (DA) জট কাটিয়ে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ (20%) মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মোট ডিএ ১৮% থেকে বেড়ে ৩৮% এ পৌঁছল, যা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সাথে ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে আনবে।
উপসংহার
২০২৬-২৭ সালের এই বাজেট প্রমাণ করে যে, রাজ্য প্রশাসন সমাজের একেবারে নিচুতলায় থাকা কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে কতটা বদ্ধপরিকর। একদিকে যেমন সাধারণ মহিলাদের জন্য 'অন্নপূর্ণা যোজনায়' ৩,০০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই ফ্রন্টলাইন কর্মীদের ৫,০০০ টাকা পারিশ্রমিক বৃদ্ধি একটি সুচিন্তিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ।
আগামী আগস্ট মাস থেকে যখন এই বর্ধিত ভাতা কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে, তখন তা গ্রামীণ এবং আধা-শহর এলাকার অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী চাহিদার সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করবে।
Comments (0)
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *
No comments yet. Be the first to start the discussion!